ব্লগ থেকে আয় করার সেরা সাতটি উপায় – এবার আপনার ব্লগ থেকে আয় হবেই

ব্লগ থেকে আয় করার সেরা সাতটি উপায় – এবার আপনার ব্লগ থেকে আয় হবেই

আমি ধরে নিচ্ছি আপনার একটা ব্লগ আছে কিংবা আপনি একটা ব্লগ বানাতে যাচ্ছেন। এখন আপনার মনের মধ্যে নিশ্চিত ভাবে একটা ব্যাপার খটকা লাগবে যে, আমি ব্লগ থেকে কীভাবে আর্ন করব?

আদৌ কি আয় করা সম্ভব? পৃথিবীর যতবড় ব্লগারই হোক না কেন, সে ও একদিন আপনার মত এমন একটা অবস্থায় ছিল। কিন্তু সে হার্ড ওয়ার্কের দ্বারা তাঁর অবস্থান গড়ে নিয়েছে। এখন আপনি যদি ব্লগিং নিয়ে সিরিয়াস চিন্তা-ভাবনা শুরু করে থাকেন, তাহলে আশা করি এই পোস্ট আপনার অনেক কাজে আসবে।

কারণ, আমি এখানে ব্লগ থেকে আয়ের সবচেয়ে সেরা এবং প্রচলিত সাতটি উপায় দেখাবো। বিষয় ভিত্তিক ভাবে, ব্লগ থেকে আয়ের শত শত উপায় রয়েছে। কিন্তু কিছু ব্যাপার রয়েছে যা খুব বেশী প্রচলিত এবং প্রমাণিত।

আমি এই পোস্টে ঠিক তেমনি কিছু উপায় নিয়ে কথা বলব।

এবার মুল আলোচনায় আসা যাক।

 

১. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

যারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তারা এই পোস্টটা পড়ে এসে এটা পড়বেন। আশা করি বুঝতে পারবেন সবকিছু।

ধরে নিলাম যে, আপনি কার কিংবা গাড়ি নিয়ে ব্লগিং করছেন। আপনার একটা ব্লগ আছে সেখানে আপনি গাড়ি সম্পর্কিত নানা ধরণের লেখালেখি করেন। গাড়ি কিন্তু খুব বিশাল বড় এবং পপুলার একটা নিশ, আমি যা উদাহরণ দিব তা নিয়েই কেউ কাজ করা শুরু কইরেন না আবার।

ন্যাচারালি আপনি যখন প্রোপারলি আপনার ব্লগ গাড়ি নিয়ে লেখালেখি করবেন তখন আপনার একটা রিডার কমিউনিটি তৈরি হবে। কিছু ভিজিটর আপনার সাইটের লেখা খুবই পছন্দ করবে এবং এটা রেগুলার পড়বে।

আবার কিছু ভিজিটর হয়তো এড়িয়ে যাবে। এমতাবস্তায়, আপনি যদি গাড়ির কোন পার্টস নিয়ে, মানে সেটার উপকারিতা এবং ব্যবহার বিধি লিখে সাইটে পোস্ট করেন এবং সেটা কেনার জন্য আপনার রিডারদের রিকমেন্ড করেন তাহলে এটা নিশ্চিত যে, আপনার ট্রাস্টেড ভিজিটরদের একাংশ যাদের ওই পার্টস দরকার সেটা তারা আপনার সাইটের লিংক থেকে কিনবে।

এখন ধরে নিলাম, আপনি অ্যামাজনের একটা প্রোডাক্টের লিংক দিয়েছিলেন। এবং কিছু মানুষ সেটা অ্যামাজনে গিয়ে কিনলো। এখন আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক থেকে গিয়ে কেনার কারনে সেটার একটা নির্দিষ্ট কমিশন আপনি পাবেন।

এটাই হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, এভাবে আপনি যতখুশি প্রোডাক্ট আপনার সাইটে প্রমোট করতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে এই ডিজিটাল পেশায় আসা অনেক বেশী নির্ভরযোগ্য কিন্তু আসার আগে অবশ্যই এ টু জেড জেনে নিজে পারবেন কি না সেটা বুঝে আসা উচিত।

 

২. এডভার্টাইজিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর পরে যে ব্যাপারটা আমি সাজেস্ট করি সেটা হলো ব্লগ বা ওয়েবসাইটে এড ইউজ করা। ধরেন আপনার সাইটে প্রতিমাসে ২০,০০০ ভিজিটর ভিজিট করে। এমতাবস্তায় আপনি একটা অনলাইন এড নেটওয়ার্ক কোম্পানিতে এপ্লাই করলেন। তারা আপনার একাউন্ট এপ্রুভ করলো এবং আপনার সাইটে তাদের এড বসানোর অনুমতি দিলো।

এখন আপনার আর্নিং হবে, মোট কতজন লোক এড দেখলো, কত জন ক্লিক করলো এসব ম্যাট্রিক্সএর উপর ডিপেন্ড করে।

পৃথিবীর এক নম্বর এড নেটওয়ার্ক হচ্ছে গুগল এডসেন্স। এডসেন্স এর জন্য সাইট বানাতে গেলে অনেক রুলস মেনে সাইট বানানো লাগে বাট এটাই সেরা।

নিচে স্কিনশট দিয়ে সাইটে এডের একটা এক্সাম্পল দিচ্ছি।

Image Credit - Mashable.com
Image Credit – Mashable.com

 

৩. সার্ভিস সেল করা

সার্ভিস সেল করা
সার্ভিস সেল করা

ধরে নিলাম আপনি অনলাইনের যে নানা ধরণের কাজ রয়েছে এর মধ্যে যেকোন একটা ব্যাপারে অনেক দক্ষ। আমি ধরে নিলাম যে, আপনি একজন দক্ষ ওয়ার্ডপ্রেস ডেভলপার। এখন আপনি ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে ব্লগ করে সেখান থেকে সার্ভিস সেল করতে পারেন খুব সহজেই।

স্টেপ গুলো এমন।

ক. ব্লগ বানানো

খ. সেখানে অনেক হাই-কোয়ালিটি এবং এডভান্স লেভেলের টিপস মুলক কন্টেন্ট দেওয়া

গ. সার্ভিস রিলেটেড কিওয়ার্ড খুজে বের করা

ঘ. ওইসব কিওয়ার্ড অপটিমাইজ করে সাইটকে র‍্যাংক করা

ঙ. অবশেষে ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেল করা

এভাবে আগালে আপনি আপনার নানা ধরণের সার্ভিস খুব সহজেই সেল করতে পারবেন। এটা শুধু ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য না, যেকোন অনলাইন কাজের জন্য ও চলবে।

 

৪. কোর্স সেল করা

কোর্স সেল করা
কোর্স সেল করা

ব্যাপারটা অনেকটা সার্ভিস সেল করার মতোই, আপনি নির্দিষ্ট একটা নিসে সাইট বানাবেন সেখানে ভালো ভালো টিপস দিবেন এবং পরে ওই বিষয়ের উপর মানসম্মত একটা কোর্স বানাবেন।

ব্লগ ভালো হলে কোর্স নির্দিধায় সেল হবে, কোন টেনশন করা লাগবে না।

 

৫. বই বিক্রি করা

বই বিক্রি করা
বই বিক্রি করা

সাইটে বিভিন্ন ধরণের বইয়ের রিভিউ লিখে বই বিক্রি করতে পারেন। ইন্টারন্যাশনালি হলে আপনাকে একজন অ্যাফিলিয়েট হিসেবে সেল করতে হবে কিন্তু লোকালি হলে সেটা নিজেই করতে পারবেন।

ধরেন, আপনি ৫০০ বই কিনে আনলেন পাইকারি রেটে। দেন আপনার ব্লগে সেগুলোর রিভিউ প্রকাশ করলেন।

এভাবে মানুষের কাছে পৌছাতে পারলে, সেল অবশ্যই হবে।

 

৬. লিংক সেল করা

আপনার ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগ যদি অনেক হাই অথোরিটিটিভ হয়, তখন আপনি চাইলেই সেটা থেকে লিংক সেল করতে পারবেন।

অর্থাৎ, আপনার সাইটে অন্য কেউ কন্টেন্ট পাবলিশ করে এখান থেকে লিংক পেতে চাইবে কারণ আপনার অথোরিটি বেশী।

 

৭. নিজের বানানো প্রোডাক্ট সেল করা

আপনি আপনার নিজের বানানো প্রোডাক্ট নিয়ে ও কাজ করতে পারেন অনলাইনে। যদি প্রোভাইড করার এবিলিটি থাকে এবং কাজ ভালো হয় তাহলে ভালো কিছু করা সম্ভব।

 

উপসংহার

এছাড়া ও আরো নানা ধরণের আয়ের উপায় রয়েছে ব্লগ থেকে। আরো জানতে আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন, আর ব্লগিং করার ইচ্ছে থাকলে আমাদের ব্লগিং কোর্সটি কিনে নিতে পারেন এখান থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *