ওয়েব টু লিংক বিল্ডিং এর সময় কোন ব্যাপার গুলো মাথায় না রাখলে আপনার সাইট পেনালাইজড হতে পারে?

ওয়েব টু লিংক বিল্ডিং এর সময় কোন ব্যাপার গুলো মাথায় না রাখলে আপনার সাইট পেনালাইজড হতে পারে?

ওয়েব টু সাইট বিল্ড করে সেখান থেকে লিংক নেওয়া খুবই পাওয়ারফুল একটা অফ পেজ এস ই ও প্র্যাকটিস। দিন দিন লিংক বিল্ডিং এ নানা ধরণের পরিবর্তন আসতেছে এবং ওয়েব টু তে ও হিউজ পরিমাণ পরিবর্তন এসেছে। একটা সময় ছিল, যখন স্পিন বা ট্রান্সলেট করা কন্টেন্ট দিয়ে খুব সহজেই ওয়েব টু বানিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া যেত। কিন্তু সেই সময় এখন আর নাই, কারণ গুগলের চোখে একটু এদিক সেদিক হলেই পেনাল্টি খাওয়ার চরম সম্ভাবনা আছে।

বর্তমানে পেনাল্টি খাওয়া ম্যাক্সিমাম সাইট এনালাইজ করে দেখা গেছে যে, বেশিরভাগ সাইটই শুধু লো কোয়ালিটি লিংক বিল্ডিং এর জন্য পেনালাইজড হয়েছে। থিন কন্টেন্ট এবং লো কোয়ালিটি লিংক এই দুটো হলো পেনাল্টির প্রধান কারণ।

এখানে আমি কিছু ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করব, যেসব মাথায় না রাখলে আপনার সাইট ও নেক্সট পেনাল্টি এর শিকার হতে পারে। লিংক বিল্ডিং আপনি যেভাবেই করেন না কেন গুগল কোনটাই ভালো চোখে দেখে না। গুগল শুধু চায় ন্যাচারাল লিংকস। তারা যদি কোন ভাবে বুঝতে পারে যে আপনি লিংক বানাচ্ছেন কিংবা কিনছেন তাহলে সাইটের অনেক বিপদ আছে।

নিচের স্কিনশটটা দেখেন তাহলেই বুঝতে পারবেন পেইড লিংকের কেমন বিপদ।

paid links

আর ওয়েব টু লিংক বিল্ডিং নিয়ে প্রচুর সার্ভিস রয়েছে এবং এটা এক ধরণের পি বি এন।

আসেন আমাদের মুল কন্টেন্ট যাই।

১. ওয়েব টু কে রিয়েল ওয়েবসাইট লুক দিতে হবে

মনে রাখবেন, আপনি যত ভ্যালু এড করবেন গুগল আপনাকে ঠিক ততোটাই ভ্যালু দিবে। সে জন্য একটু বেশী সময় নিয়ে, ওয়েব টু গুলোকে একদম রিয়েল ওয়েবসাইটের লুক দেওয়া লাগবে।

আমরা জানি যে, একটা ওয়েব টু সাইটকে ওয়ার্ডপ্রেসের মত শতভাগ কাস্টমাইজ করা সম্ভব না কিন্তু যতটুকু করা যায়, সেটার সর্বোচ্চ করতে হবে। নিচে একটা ওয়েব টু সাইটের স্কিনশট দিচ্ছি, এটার ডিজাইন দেখেন।

ideal web 2 site example

এখানে দেখেন সুন্দর করে মেনু করা আছে এবং ম্যান্ডেটরি পেজ গুলো ও আছে। ম্যান্ডেটরি পেজ বলতে About Us, Contact Us, Privacy and Policy এসব পেজকে বুঝায়। এসব পেজ থাকলে যেকোন সাইটকে অনেক বেশী ট্রাস্টেড মনে হয়।

সাইটের ডিজাইন হবে একদম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। অতিরিক্ত কালার কিংবা ইমেজ-মিডিয়া এসব ইউজ করার কোন দরকার নেই। কিন্তু প্রয়োজনীয় ইউটিউব ভিডিও, ইমেজ এসব এড করতে ভুলবেন না।

থিমের ক্ষেত্রে ব্লগের জন্য বা ব্লগ টাইপের থিম ইউজ করবেন। একটা রাইট সাইডবার, কাস্টম মেনু এবং হেডার। এটুকু কাস্টমাইজ করতে পারলেই এনাফ।

কাস্টমাইজেশনের জন্য আমি সাজেস্ট করি ওয়ার্ডপ্রেস এবং ওয়েবলি। এই দুটি প্লাটফর্মে ইচ্ছে মত সাইট ডিজাইন করা যায়। বিশেষ করে ওয়ার্ডপ্রেস আমার খুব প্রিয়।

 

২. শুধু মাত্র ইউনিক এবং কপিরাইট ফ্রি কন্টেন্ট ব্যবহার করবেন

আমাদের সবার মধ্যে একটা ভুল ধারনা রয়েছে যে, ওয়েব টুতে স্পিন কন্টেন্ট ইউজ করা যায়। একটা সময় ব্যবহার করা যেত এটা সত্যি। কিন্তু বর্তমানে গুগলের চোখকে ফাঁকি দিয়ে স্পিন কন্টেন্ট ইউজ করা মোটে ও সম্ভব না।

আবার অনেকে বলেন প্রিমিয়াম স্পিনার দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়। স্পিনার হোক ফ্রি কিংবা প্রিমিয়াম স্পিনার, স্পিনারই। সো এটা খুব স্ট্রিকটলি এভয়েড করার জন্য সাজেশন দিচ্ছি। চাইলে লো কোয়ালিটি রাইটার দিয়ে লিখিয়ে নিবেন কিন্তু স্পিন ইউজ করবেন না।

 

৩. অথোরিটি সাইট গুলোকে লিংক দিন, শুধু নিজের সাইটকে নয়

অনেক সময় অনেকেই ওয়েব টু বানিয়ে শুধু নিজের সাইটের জন্য অনেক গুলো লিংক নিয়ে নেন। এটা মোটে ও ভালো প্র্যাকটিস নয়। অথোরিটির ব্যাপারটায় আপনাকে একটু সময় দিতে হবে।

ধরেন আপনি বেবি নিশ নিয়ে ওয়েব টু সাইট করেছেন। আপনার উচিত হবে বেবি নিশের বড় বড় সাইট গুলোকে ন্যাচারালি লিংক দেওয়া। এতে করে ট্রাস্ট ফ্লো বৃদ্ধি পায়। গুগলের চোখে এটা খুবই ভালো একটা জিনিস।

আমার সাজেশন হচ্ছে, একটা কন্টেন্ট থেকে মিনিমাম ৩-৪ টা লিংক দিবেন অথোরিটি সাইট গুলোকে।

 

৪. সঠিক মিডিয়া ফাইল ইউজ করতে ভুলবেন না

সঠিক স্থানে সঠিক ইমেজ কিংবা ভিডিও এড করতে ভুলবেন না। এটা আপনার অথোরিটি বাড়াতে সাহায্য করবে।

বিশেষ করে ইউটিউব ভিডিও এমবেড করে দিতে পারেন। আপনার যদি নিজের ভিডিও থাকে তাহলে সেটা আরো অসাধারণ হবে।

 

৫. এংকর টেক্সট এবং লিংক গুলো ন্যাচারালি বসাবেন

ওয়েব টু এর একটা কন্টেন্ট থেকে দুইটার বেশি লিংক নেওয়া মোটে ও ঠিক না। আর একদম সঠিক এংকর টেক্সট থেকে লিংক নেওয়া লাগবে। এক্সাক্ট ম্যাচ কিওয়ার্ডে লিংক নিবেন না, এটা এখন স্পামি প্র্যাকটিস।

এংকর টেক্সটের মধ্যে ভিন্নতা রাখার চেষ্টা করবেন এবং রিলেভেন্সি ও যেন থাকে।

 

 

৬. প্রতিটা ওয়েব টু সাইট ক্রিয়েশনের জন্য আলাদা ই-মেইল ইউজ করবেন

প্রতিটা সাইটের জন্য আলাদা আলাদা ই-মেইল ইউজ করা অনেক জরুরি। না হলে একটা ফুট-প্রিন্ট থেকে যায়। আর ফুট-প্রিন্ট থেকে আপনার পেনাল্টি চলে আসতে পারে।

একটা ব্যক্তিগত সাজেশন হলো – জিমেইল আর ইয়াহু মেইল ওয়েব টু সাইট বানানোর ক্ষেত্রে ইউজ না করাটাই বেটার।

 

৭. সব কিছু লগ ইন এক্সেস একটা এক্সেল ফাইলে জমা রাখবেন

 

আরো পড়ুন

বিভিন্ন পেজ এবং পোস্টে আলাদা আলাদা সাইডবার দেখানোর সিস্টেম

প্রথমবার ভিজিট করা ভিজিটরকে গ্রাহকে রূপান্তর করার উপায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *